এখানে আপনার ব্যানার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করুন
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন: +8801836510168
শিক্ষা
ব্রেকিং
দখল-অবহেলা ও পরিবেশদূষণে অস্তিত্ব সংকটে চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়( জরাজীর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও জলাবদ্ধতায় ব্যাহত পাঠদান; বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবি)
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা : নেত্রকোনা সদর উপজেলার পৌরশহরের চকপাড়ায় অবস্থিত চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দখল, অবহেলা ও পরিবেশদূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, স্যানিটেশন সংকট, জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা এবং বিদ্যালয়ের জমি বেদখলে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ প্রায় অনুপস্থিত।সরেজমিনে দেখা যায়, চার কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পাঁচটি শ্রেণিতে মোট ১১২ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য রয়েছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষিকা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। নিজস্ব খেলার মাঠ নেই, নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা ও নিরাপদ সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এমনকি টয়লেটের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করতে হয় বলে জানা গেছে। এসব সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা, আঙিনাজুড়ে ময়লা-আবর্জনাবিদ্যালয়টিতে প্রবেশের পথটিও শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট দুর্ভোগের কারণ। প্রবেশপথের একটি অংশ ড্রেনের ওপর দিয়ে তৈরি। বিদ্যালয়ের আঙিনায় ঢুকতেই চোখে পড়ে ময়লা-আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা। রয়েছে অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং টয়লেটের সামনে অনিরাপদ পরিবেশে স্থাপিত খাবার পানির ট্যাপ।মূল ভবনে প্রবেশ করতেই দেখা যায় জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থাও নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে।বিদ্যালয়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগবিদ্যালয়টির সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে জমি বেদখলে থাকার অভিযোগ। বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দা ঘেঁষে দখলকৃত জায়গায় স্থানীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে টয়লেট, রান্নাঘর ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ও রান্নার ধোঁয়া শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারের জন্য দখলকারীদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান মেলেনি। ফলে জমির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, স্যানিটেশন সুবিধা ও শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।সাত শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পিয়ারা বেগম বলেন, “আমি যখন বিদ্যালয়ে আসি, তখন এখানে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর ছিল। পরে ২০১০ সালে বিদ্যালয়টির পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এবং কিছু জায়গা বেদখলে থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো যথাযথভাবে নির্মাণ করা যায়নি।”তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ সাত শতাংশ, যা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। শিশুদের মেধার বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্যও খেলার মাঠ থাকা জরুরি। কিন্তু জায়গার অভাব ও জমি বেদখলে থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশের প্রতিবেশীরা অনেকটা জোর করেই বিদ্যালয়ের জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করছেন।”নতুন উদ্যোগে সংকট নিরসনের আশ্বাসবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চঞ্চল খান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমাকে বিদ্যালয়ের জমিদাতা হিসেবে সভাপতি করা হয়। এর আগে যিনি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, তিনি প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কেন উদ্যোগ নেননি, তা আমার বোধগম্য নয়।”তিনি আরও বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাটি দেড় থেকে দুই ফুট প্রশস্ত ছিল। সেটি আট ফুট করা হয়েছে। পাশাপাশি টিনশেডের একটি টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনের তুলনায় এসব সুবিধা এখনো খুবই অপ্রতুল।”নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, “বিদ্যালয়টির স্যানিটেশন ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। আগে যারা বিদ্যালয়টির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবহেলা কিংবা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে।”তিনি জানান, বিদ্যালয়টির যাবতীয় সমস্যা নিরসনে নতুন প্রকল্প ‘পিডিএ-৫’-এর প্রথম দিকে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সংকট নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরিএকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। অথচ চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমি বেদখল, জরাজীর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, ভবন সংস্কার, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে বিদ্যালয়টিকে সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে।
বর্তমান যুগে আমরা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অনেক নির্ভর হয়ে পড়ছি ----শিক্ষামন্ত্রী
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলার বই: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
ব্যতিক্রমী উদ্যোগে শৃঙ্খলা ফিরেছে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে, বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
নিয়োগপত্র প্রাপ্তি বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান ---শিক্ষামন্ত্রী
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন