সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
Trust Media Live
মেনু নেভিগেশন
প্রচ্ছদ অপরাধ অর্থনীতি আইন ও আদালত আন্তর্জাতিক কৃষি খেলা চাকুরী জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি দুর্ঘটনা দুর্নীতি প্রবাস বিনোদন ভিডিও নিউজ রাজনীতি লাইফস্টাইল শিক্ষা সাক্ষাৎকার সারাদেশ স্বাস্থ্য
বিজ্ঞাপন

এখানে আপনার ব্যানার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করুন

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন: +8801836510168

ব্রেকিং ◆ বরিশল’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপি শ্যামলের চিঠি ◆ নরসিংদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন ◆ গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চালক নিহত ◆ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ করা হবে----যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ◆ তরুণ চিকিৎসকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে মুক্তভাবে চিন্তা করতে হবে----স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত

আইন ও আদালত

news ব্রেকিং

বাল্যবিবাহ নিরোধে আইন ও বাস্তবতা: কঠোর শাস্তি থাকলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো একটি বড় সামাজিক সমস্যা। আইন প্রণয়ন ও শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর হাজার হাজার কিশোরী অকালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪৭ শতাংশই ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে করেছে। যদিও হার কিছুটা কমেছে, অগ্রগতির গতি এখনো ধীর।আইন কী বলে২০১৭ সালে প্রণীত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী, ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছর। এর কম বয়সে যেকোনো বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।প্রাপ্তবয়স্ক কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিয়ে করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পিতা-মাতা, অভিভাবক বা বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা নিবন্ধন করলেও একই ধরনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। আদালত চাইলে বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।তবে আইনের ১৯ ধারায় একটি বিশেষ বিধান রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং অভিভাবকের সম্মতিতে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিয়ে অনুমোদিত হতে পারে। এই ব্যতিক্রম ধারাটি নিয়ে সমালোচনাও আছে, কারণ এটি অনেক সময় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।প্রতিরোধ ব্যবস্থাআইন প্রয়োগের পাশাপাশি সরকার জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে। জন্ম ও বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্কুলে মেয়েদের ধরে রাখা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০৩০) অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।স্থানীয় পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মিলে অনেক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার এমন বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।বাস্তব চ্যালেঞ্জতবুও দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষার অভাব এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার সম্মান রক্ষার নামে বা অর্থনৈতিক চাপে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়। জন্মসনদ জাল করে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে নিবন্ধনের ঘটনাও ঘটে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইনের কঠোর প্রয়োগ, মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বাল্যবিবাহ শুধু একটি আইনি অপরাধ নয়—এটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয়। আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং সমাজের সচেতনতাই পারে এই প্রথাকে সত্যিই বন্ধ করতে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন